সিসি ডেস্ক: দেশে একের পর এক ব্লগার খুন হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই খুন হয়েছেন চার জন। এসব হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ কয়েক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। কেউ কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দিও দিয়েছেন। তবুও থামছে না ব্লগার হত্যা। পুলিশের দাবি, জঙ্গিদের বিভাজিত সেলের (গ্রুপ) কারণে থামছে না এসব হত্যাকাণ্ড। তারা অনেক ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করে। আছে অসংখ্য ভুয়া ফেসবুক আইডি।
২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় খুন করা হয় ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে। এরপর ২০১৫ সালে খুন করা হয় তিন জনকে। এদের মধ্যে অভিজিৎ রায় ২৬ ফেব্রুয়ারি, ওয়াশিকুর রহমান বাবু ৩০ মার্চ, সিলেটে অনন্ত বিজয় দাশ ১২ মে হত্যার শিকার হন। আর সর্বশেষ গেল শুক্রবার দুপুরে খিলগাঁওয়ের গোড়ানে বাসায় ঢুকে নীলাদ্রি চ্যাটার্জি ওরফে নিলয় নীলকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এদের সবাইকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠনগুলো।
সোমবার মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আগের ব্লগার হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে নিলয়ের হত্যাকাণ্ডের কিছু মিল রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এ হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটাচ্ছে’।
তিনি বলেন, ‘আনসার আল-ইসলাম, আনসারুল্লাহ বাংলা-৭, আনসার আল-বাংলাদেশসহ বিভিন্ন নামে জঙ্গি সংগঠনগুলো সারাদেশে ছড়িয়ে আছে। মূলত পুলিশের দৃষ্টি এড়ানোর জন্যই ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ আলাদা আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়েছে। আর বিভাজিত গ্রুপের কারণে সবাইকে নজরদারির মধ্যে রাখা যায় না। আর এক গ্রুপের সদস্যদের খবর অন্য গ্রুপের কাছে পাওয়া যায় না। এমনকি কেউ কারো নামও বলতে চায় না।’
ডিএমপির মুখপাত্র দাবি করেছেন, ‘জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান সমন্বয় মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানি, যিনি এখন কারাগারে রয়েছে। আর বর্তমানে সংগঠনটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন তামিম আল আদনানি। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামগ্রিকভাবে একটি নেটওয়ার্ক দেশের ভিতরে আছে। আর এটি পরিচালনা করা হচ্ছে পাকিস্তান থেকে।’
জঙ্গিরা ছদ্ম নাম ব্যবহার করে ফেসবুক ও জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করছেন বলে জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার। মনিরুল বলেন, ‘দেশে হাজার হাজার ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ওয়েবসাইট রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে জঙ্গিরা সংঘঠিত হচ্ছে। তৈরি করছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক। আর হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।’
ব্লগারদের ব্যাপারে মনিটরিং করা হচ্ছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্মের ব্যাপারে কটূক্তি কিংবা সীমা লঙ্ঘন করে থাকলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
মনিরুল ইমলাম বলেন, ব্লগার রাজীব হত্যার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আদালতে ৫ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ব্লগার দেব হত্যায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওয়াশিকুর রহমান হত্যার দায়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে দাবি করেছেন মনিরুল ইসলাম।
আর নিলয় হত্যাকাণ্ডেও জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম দল জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ করছে ডিবি। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিলয় হত্যাকাণ্ডের মামলাটি ডিবির তদন্ত করছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকাল নয়টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ডিবির কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে নিলয়ের প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনসহ আশেপাশের বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথা বলেছেন।
এ ঘটনার তদন্তে ডিবি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতগুলো ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে মামলায় আশানুরূপ অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।